লক্ষ্মীপুর'র সংস্কৃতিজন কথা
❦ ❦ ❦

লক্ষ্মীপুর'র সংস্কৃতিজন কথা

গবেষণা, তথ্যসংগ্রহ, রচনা ও সম্পাদনা

✦
টিংকু রঞ্জন মল্লিক

থিয়েটার ইনস্টিটিউট, লক্ষ্মীপুর
প্রথম প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫

প্রকাশনা তথ্য

প্রকাশক ও কৃতজ্ঞতা

বইটি প্রকাশ করেছেন টিংকু রঞ্জন মল্লিক, লক্ষ্মীপুর। প্রচ্ছদ শিল্পী তাপস কুমার শর্মা (বাপ্পি)। মুদ্রণায় লিটল ড্রিম। প্রথম প্রকাশ ২০ আগস্ট ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ। মূল্য ৩০০ টাকা।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: থিয়েটার ইনস্টিটিউট, লক্ষ্মীপুর (থিয়েটার প্রশিক্ষণ, চর্চা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান)

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

জেলা প্রশাসন, লক্ষ্মীপুর; জেলা পরিষদ, লক্ষ্মীপুর; নাট্যজন আবুল হাসেম; নাট্যজন আবদুল মান্নান আকন্দ; নাট্যজন মু. মাহতাব উদ্দিন আরজু; ফারুক হোসেন শিহাব।

❦ ❦ ❦

বাবা

স্বর্গীয় যদু গোপাল মল্লিক
যিনি আমার জীবন ও সংস্কৃতিচর্চার সাথে মিশে আছেন পরম মমতায়

ভূমিকা

ভূমিকা

সংস্কৃতির কথা যখন আমরা বলি তখন সংস্কৃতির বলয়ে সকল মানুষের চর্চা ও প্রকাশের অধিকার জড়িয়ে থাকে ওতপ্রোতভাবে। কিন্তু সেখানেও আমরা সৃজনশীলতার কল্লোল অনুভব করতে পারি। সংস্কৃতিচর্চাকে ধারণ করে যখন একটি জাতিগোষ্ঠী তার জীবনমান যাপন করে, সে জাতিগোষ্ঠী বিশ্ব মানচিত্রে নিজের মৌলিকত্বকে জানানদেয় সর্বাগ্রে।

টিংকু রঞ্জন মল্লিক 'লক্ষ্মীপুর'র সংস্কৃতিজন কথা' বইটি যখন প্রকাশ করার অভিপ্রায় জানান তখন বইটিতে কি বিষয় নিয়ে উপস্থাপিত হবে সেটা জানার আগ্রহ প্রকাশ করি। তিনি বিষয়টি বিস্তারিত ভাবে আমাকে অবগত করেন। তার বিষয়বস্তু ও প্রাসঙ্গিকতা আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে।

'লক্ষ্মীপুর'র সংস্কৃতিজন কথায়' উল্লেখিত এমন বিষয়বস্তু নিয়ে এর আগে কোন জেলায় এই ধরণের প্রকাশিত গ্রন্থ সম্পর্কে আমার জানা নেই। এটা তাঁর দীর্ঘ দিনের গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের উত্তোলিত ফসল। তিনি তাঁর বইটিতে একজন দক্ষ গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রত্যক্ষ করে এই গ্রন্থের বিষয়গুলোকে উপস্থাপন করেছেন।

লেখক পরিচিতি: টিংকু রঞ্জন মল্লিক - শিক্ষক, নাট্যকলা প্রশিক্ষক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি; চেয়ারম্যান, বিবর্তন থিয়েটার ইনস্টিটিউট, লক্ষ্মীপুর।

মনিরুজ্জামান মনির
জেলা কালচারাল অফিসার
জেলা শিল্পকলা একাডেমি, লক্ষ্মীপুর
৩০ জুলাই ২০২৫ খ্রি.

সূচিপত্র

প্রাসঙ্গিক পাঠসূচি

📝 প্রবন্ধ

  • লক্ষ্মীপুর : সংস্কৃতি চর্চার ইতিবৃত্ত পৃষ্ঠা ৯
  • লক্ষ্মীপুর জেলার নাট্যচর্চার ইতিহাস পৃষ্ঠা ২৫

🎭 নাট্যকলা

  • মনোরঞ্জন আইচ পৃষ্ঠা ৩৭
  • ব্রজেন্দ্র কুমার নাথ পৃষ্ঠা ৪১
  • অ্যাড. প্রদীপ কুমার পাল (রবি) পৃষ্ঠা ৪৩
  • বিশ্বনাথ সাহা পৃষ্ঠা ৪৬
  • সুভাষ চন্দ্র চৌধুরী পৃষ্ঠা ৪৮
  • অধ্যাপক তপন কুমার দাস পৃষ্ঠা ৫০
  • শহিদ উল্যা খন্দকার পৃষ্ঠা ৫২
  • আবুল হাসেম পৃষ্ঠা ৫৫
  • প্রফেসর মো. মাইন উদ্দিন পাঠান পৃষ্ঠা ৫৮
  • গোলাম মোরশেদ পৃষ্ঠা ৬২
  • বেলায়েত হোসেন রিপন পৃষ্ঠা ৬৪
  • মুহা. মাহতাব উদ্দিন আরজু পৃষ্ঠা ৬৬
  • ডালিম কুমার দাস টিটু পৃষ্ঠা ৬৯

🎵 কন্ঠসংগীত

  • রাধেশ্যাম পাটওয়ারী পৃষ্ঠা ৭২
  • যদু গোপাল দাস পৃষ্ঠা ৭৪
  • সুদেব চন্দ্র দাস পৃষ্ঠা ৭৫
  • মুকুল দাস পৃষ্ঠা ৭৭
  • স্বপন কুমার নন্দী পৃষ্ঠা ৭৮
  • মাহবুবুল বাসার পৃষ্ঠা ৮১
  • অলোক কুমার কর পৃষ্ঠা ৮৩
  • লিপিকা সিংহ রায় পৃষ্ঠা ৮৫
  • সংগ্রাম মজুমদার পৃষ্ঠা ৮৭
  • শিল্পী রানী চক্রবর্তী পৃষ্ঠা ৮৯
  • সুনন্দা কর পৃষ্ঠা ৯১
  • ফরিদা ইয়াসমিন লিকা পৃষ্ঠা ৯৪
  • মনিকা চক্রবর্তী পৃষ্ঠা ৯৬
  • সুপ্তি রানী ভৌমিক পৃষ্ঠা ৯৮
  • সুমা ভৌমিক পৃষ্ঠা ১০০

🎶 লোক সংস্কৃতি

  • কবিয়াল হায়দার আলী বয়াতী পৃষ্ঠা ১০২
  • কৃষ্ণ গোপাল দাস বাউল পৃষ্ঠা ১০৪
  • মো. মোস্তফা মাতাব্বর পৃষ্ঠা ১০৭
  • অহিদ উদ্দিন রতন পৃষ্ঠা ১০৯
  • মো. হোসেন বয়াতি পৃষ্ঠা ১১১
  • প্রাণ গোবিন্দ দাস পৃষ্ঠা ১১৩

💃 নৃত্যকলা

  • বনশ্রী পাল পৃষ্ঠা ১১৬
  • মো. আবদুল লতিফ শাকিল পৃষ্ঠা ১১৮
  • আবদুর রহিম অপূর্ব পৃষ্ঠা ১২০
  • শুভ দাস পৃষ্ঠা ১২২

🎨 চারুকলা

  • এস এম জাহাঙ্গীর পৃষ্ঠা ১২৪
  • নিজামুল ইসলাম পৃষ্ঠা ১২৭
  • আবুল কাশেম খোকা পৃষ্ঠা ১২৯
  • দীপন কুমার দাস পৃষ্ঠা ১৩১
  • তাপস কুমার শর্মা পৃষ্ঠা ১৩৩

🥁 তবলা

  • সুবল নাথ পৃষ্ঠা ১৩৫
  • বেণী মাধব মজুমদার পৃষ্ঠা ১৩৭
  • অলক কুমার চক্রবর্তী পৃষ্ঠা ১৩৯
  • অঞ্জন দাস পৃষ্ঠা ১৪১
  • মো. ওমর ফারুক মুরাদ পৃষ্ঠা ১৪৩

📜 আবৃত্তি

  • হেলাল উদ্দিন মাহমুদ পৃষ্ঠা ১৪৫
  • রাফিয়া আক্তার পৃষ্ঠা ১৪৭
  • মু. রাফি নাহিদ পৃষ্ঠা ১৪৯

🎪 যাত্রাশিল্পী

  • স্বপন চক্রবর্তী পৃষ্ঠা ১৫১
  • চামেলী পাল পৃষ্ঠা ১৫৩
  • বেলায়েত হোসেন পৃষ্ঠা ১৫৬

✨ অন্যান্য

  • অমৃত লাল নাথ পৃষ্ঠা ১৫৮
  • হিমাদ্রি শেখর মুখার্জী পৃষ্ঠা ১৬১
  • দীলিপ চৌধুরী পৃষ্ঠা ১৬৫
  • শংকর মজুমদার পৃষ্ঠা ১৬৭
  • বিধু ভুষণ দাস পৃষ্ঠা ১৭০
  • টিংকু রঞ্জন মল্লিক পৃষ্ঠা ১৭২
প্রবন্ধ

লক্ষ্মীপুর : সংস্কৃতি চর্চার ইতিবৃত্ত

১৮৭০ থেকে ২০২৫ - দেড়শ বছরের সাংস্কৃতিক পথচলা

লক্ষ্মীপুর সাংস্কৃতিক অঙ্গণ প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো। এ দেড়শ বছরে এখানে নাটক, থিয়েটার, যাত্রা, কবিগান, লীলাকীর্তন, জারি কোন কিছুরই কমতি ছিল না। আপন ঐতিহ্যে এগিয়ে আসছিল ঊনিশ শতকের আগ থেকেই। অনুমানিক ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে লক্ষ্মীপুরে মুন্সেফী আদালত প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় খ্যাতিমান আইনজীবী, মোক্তার, আমলা ও নাট্যপ্রেমী জনতা মিলে ঊনিশ শতকের প্রথমদিকে জুবলী দীঘীর উত্তর পাড়ে বর্তমান শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ীর নাট মন্দিরে একটি স্থায়ী পাকা মঞ্চ তৈরী করে নাম দেয়া হয় 'বাণী রঙ্গালয়'।

এর পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় 'মুসলিম ড্রামাটিক ক্লাব'। জানা যায়, ঐ মঞ্চে তারা প্রতি সপ্তাহে একটি করে নাটক মঞ্চায়ন করত। অভিনেতারা ছিলেন খ্যাতিমান আইনজীবী বাবু কুন্তল কৃষ্ণ মজুমদার, রমনী মোহন গুপ্ত, অশ্বিনী কুমার চৌধুরী, নরেন্দ্র চক্রবর্তী, বুদা'দা, আবদুল হাকিম উকিল, তোফায়েল আহাম্মদ চৌধুরী, মজুমিয়া, বজুমিয়া, সুলতান মিয়া, মফিজল হক পরবর্তীতে ঐতিহাসিক কারণে মনা মুখার্জী।

ঐতিহাসিক ঘটনা: ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমানের লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল। ১৯২৬ সালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর এসেছিলেন এবং লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল মাঠে তাঁকে সংবর্ধিত করা হয়।

মুন্সেফী আদালতের উকিল, মোক্তার, আমলা ও মুন্সেফগণ আবার একত্রিত হয়ে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত করেন বর্তমানের লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল। যার উৎসাহ উদ্দীপনায় ১৯২৬ সালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর এসেছিলেন এবং লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুল মাঠে (বর্তমান আদর্শ সামাদ) তাঁকে সংবর্ধিত করা হয় সেখানে তিনি গান পরিবেশন করেছিলেন। তাঁকে লক্ষ্মীপুরবাসী রূপার থালা-বাটি উপহার দিয়েছিলেন এবং টাউন হলের পশ্চিম পাশের কক্ষে তিনি রাত্রি যাপন করেছিলেন।

তখন এই মোর্চাকে ঘিরেই লক্ষ্মীপুরের শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গন এগিয়ে যেতে থাকে আর তখনি লক্ষ্মীপুরে ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠে। যাকে বলে একে বারে কানায় কানায় পূর্ণ। মানুষের মাঝে শিল্প-সাহিত্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি চর্চায় কোন অভাব অভিযোগ বা চিত্ত বিনোদনের কোন কমতি ছিল না।

তখনকার দিনে সারা দেশের অন্যতম বড় মেলা বসতো হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব ঝুলন যাত্রাকে কেন্দ্র করে দালাল বাজারে। এখানে মাসব্যাপী মেলায় বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রীর সাথে সার্কাস, যাত্রা, পুতুলনাচ, নাগরদোলা, এসবের সমাগম হত। ১৯৪১ সালের দিকে লক্ষ্মীপুরে গড়ে উঠে 'রক্ষাকালী অপেরা পার্টি' এর স্বত্ত্বাধীকারী ছিলেন শাঁখারী পাড়াস্থ ডাঃ রমেশ চন্দ্র কর।

❦ ❦ ❦

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হবার পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় মৌলবাদের কালো থাবায়। ভেঙ্গে ফেলা হয় 'বাণী রঙ্গালয়' ভন্ডুল করে দেয়া হল 'মুসলিম ড্রামাটিক ক্লাব'। জানা যায় শ্রী শ্রী শ্যামসুন্দর জিউ আখড়ায় (থানা রোড়স্থ) যাত্রানুষ্ঠানে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

তৎপরবর্তী সময়ে সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ত্ব কাটানোর চেষ্টা হয়তো অনেকেই করেছিলেন বিভিন্ন প্রতিকূলতার কেউ এগিয়ে যেতে পারেননি। তাদের মধ্যে এক নাট্যমোদী যুবক গোলাম রহমান এগিয়ে এলেন তখন তিনি কলেজ ছাত্র। তিনি শাঁখারী পাড়ার হিন্দু ছেলেদের নিয়ে নাটক করার অপরাধে সমাজপতিগণ দায়রা বাড়িতে নালিশ করে এবং সালিশে তার জন্য জুতা পেটার রায় দেয়া হয়।

এ ফাঁকে তিনি পালিয়ে চলে যান তার কলেজ হোস্টেলে। পরবর্তীতে লক্ষ্মীপুরের কিছু নাটক পাগল মুসলমান ছেলে আজিজুর রহমান, আতিকুর রহমান, আজহার মিয়া, কোব্বাদুল ইসলাম ভুঁইয়াসহ সমাজপতিদের ছেলে ও আত্মীয়-স্বজনকে সাথে নিয়ে গোপনে মরহুম বজু মিয়ার মাটির নিচে পেট্রোলের গোডাউনে নাটক মঞ্চায়নের জন্য মহড়া করেন।

এভাবেই অন্ধকারের বলয় ভেঙ্গে সংস্কৃতির আলো লক্ষ্মীপুরে প্রবেশ করে। তৎপরবর্তী সময়ে লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান রামেন্দু মজুমদার চৌমুহনী এস.এ কলেজে অধ্যাপনা করা কালীন, তিনি এই নাট্যমোদী ছেলেদের ডেকে টাউন হল সংস্কার করে ১৯৬৮ সালে পরিচালনা কমিটি করে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং গোলাম রহমান সাহেব সাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখযোগ্য অর্জন: ১৯৭৯ সালে দিলরুবা চৌধুরী বিথী পল্লীগীতিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে বাংলাদেশে কৃতিত্ব অর্জন করে জাপান সফরের সৌভাগ্য অর্জন করে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ সাল পরবর্তী সময় লক্ষ্মীপুরের সংস্কৃতি চর্চার দ্বার উন্মুক্ত হলে চর্চার একটি ক্ষেত্র গড়ে উঠে। ১৯৭২ সালে সংস্কৃতি প্রেমী কিছু লোক ইসমাইল জবি উল্ল্যাহ, বিশ্বনাথ সাহা, আনোয়ার হোসেন এবং আহম্মদ হোসেন শহীদসহ প্রতিষ্ঠা করেন 'হ য ব র ল' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

আশির দশকের মাঝামাঝি দিকে ১৯৮৫ সালে নোয়াখালীর নাটক পাগল ছেলে শামছুদ্দিন ফরহাদ চাকুরিগত কারণে লক্ষ্মীপুর অবস্থান হেতু তিনি, লক্ষ্মীপুরের শহীদ উল্যাহ খোন্দকার (প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক), জাকির হোসেন ভুঁইয়া আজাদ, দিলীপ চৌধুরী, আবুল হোসেন মাষ্টার, হুমায়ুন কবির, আমির হোসেন, সেলিম রেজা, শাহজাহান, বাবুল চক্রবর্তী, বাবুল নাথ, বাবুল দাস, মোস্তফা ফারুক বাবুল, অহিদুর রহমানসহ লক্ষ্মীপুর থিয়েটার গঠন করে এক বছর পরে এ্যাডভোকেট শৈবল কান্তি সাহা, অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান যুক্ত হয়ে নতুনভাবে নাট্যচর্চা শুরু করেন।

১৯৯২ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার কিছু মুক্ত চিন্তা ও প্রগতিশীল মানুষ একত্রিত হয়ে সত্যেন সেনের সৃষ্ট, গণ-মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে 'বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী' লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সূচনা করেন অধ্যাপক তপন কুমার দাস, বেণী মাধব মজুমদার, তমাল ব্যানার্জী, বাবুল চক্রবর্তী, নারায়ন সাহা, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম তপন, সাইফুদ্দিন হাসান, শান্তনু সাহা, মুরাদ, জহির, এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক কার্তিক রঞ্জন সেন গুপ্ত, বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মুকুল দাস, লিপিকা সিংহ রায়, ববিতা দাস লিপি, ডা. আশফাকুর রহমান মামুন, সংগ্রাম মজুমদার, টিংকু রঞ্জন মল্লিক প্রমুখ।

২০০৯ সাল লক্ষ্মীপুর সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বিশাল একটি প্রাপ্তিযোগ হয়েছিল। শ্রদ্ধেয় রামেন্দু মজুমদার আইটিআই (ইন্টান্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট) এর সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান 'একুশে পদক' প্রাপ্তিতে লক্ষ্মীপুরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের জনগণ তাঁকে 'নাগরিক সংবর্ধনা' দিয়েছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে, যা লক্ষ্মীপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

❦ ❦ ❦

২০১৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তৃণমূল শিল্পীদের জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদক চালুকরে। যারা সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃণমূলে চর্চা করে তাদের রাষ্ট্রিয় স্বীকৃতি প্রদান এর আওতায় ২০১৪ সালে জেলার পাঁচজন গুনী শিল্পীকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদক ২০১৩ প্রদান করে।

২০২৩ সালের প্রথম দিকে নতুন জেলা কালচারাল অফিসার পদায়ন করা হলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি বিস্তৃতভাবে জেলার সকল শিল্পী, সংগঠক ও সংস্কৃতিজনদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

প্রবন্ধ

লক্ষ্মীপুর জেলার নাট্যচর্চার ইতিহাস

যাত্রাপালা থেকে আধুনিক থিয়েটার - একটি সমন্বিত শিল্পের পথচলা

নাটক একটি সমন্বিত শিল্প মাধ্যম। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির বিভিন্ন মাধ্যমের মতো নাটক তার শিল্প-সৃজনে নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে স্থান করে নিয়েছে এক মৌলিক অবস্থান। সেটা আরো বেশি সম্ভব হয়েছে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের নাটককে নিয়ে গেছে ঐতিহ্যের স্বর্ণ শিখরে।

বৃহত্তর নোয়াখালী জেলায় সাহিত্য, সংস্কৃতি চর্চার ধারাবাহিকতায় লক্ষ্মীপুরও সমান তালে এগিয়ে চলেছে তার নিজস্বতায়। এখানকার নাট্যচর্চা কবে থেকে শুরু হয়েছে তার তথ্যগত কোন সঠিক উপাত্ত না থাকলেও বাংলা সাহিত্যে নাট্যচর্চার নিজস্বরীতি যাত্রাপালা এখনকার নাট্যচর্চার সমমান ধারা হিসেবে গ্রামীন সংস্কৃতিতে একেবারেই পরিচিত লোকধারা হিসেবে উপস্থাপিত হয়ে আসছে।

লোক ধারার মাধ্যমে চলমান যাত্রা শিল্প তখনকার ধর্মীয় উৎসব, নবান্ন উৎসব, বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন ঘিরে নৃত্যগীত, ধর্মীয় লীলাআখ্যান বর্ননাত্মক অভিনয়রীতি কিংবা বাংলাবর্ষের শেষের দিকে ধর্মীয় দেবদেবীদের নিয়ে সাজপালা (শিবের গাজন) আচার আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাধারণের সম্মুখে পরিবেশনের মাধ্যমেই পরিবর্তিত হয়ে আধুনিক নাট্যকলার নাট্যরীতি বা পরিবেশনা কলায় স্থান করে নেয়।

বৃটিশ শাসনামলে ইংরেজরা যখন এদেশে প্রসেনিয়াম থিয়েটার নিয়ে আসে তখন শিক্ষিত শ্রেণি নতুন এই ধারাটির প্রতি নিজেকে সম্পৃক্ত করার জন্য নাট্যগৃহে যাতায়াত শুরু করে। তারই ধারাাবাহিক লক্ষ্মীপুরেও এর আগমন ঘটে। সে দিক থেকে জেলার সংস্কৃতি চর্চার ইতিহাস কম সময়ের নয়। আর তা কালক্রমে সমসাময়িক হয়ে উঠে।

ঐতিহাসিক তথ্য: আনুমানিক ১৮৭০ খ্রি. মুন্সেফি আদালত প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় খ্যাতিমান আইনজীবী, মোক্তার, আমলা ও নাট্যপ্রেমী মিলে উনিশ শতকের প্রথম দিকে জুবলী দীঘির উত্তর পাড়ে বর্তমান শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ির নাটমন্দিরে একটি পাকা স্থায়ী মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করে 'বাণী রঙ্গালয়' নাম প্রদান করা হয়।

বাণী রঙ্গালয়ে সপ্তাহে একটি করে নাটক মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শহর কেন্দ্রিক নাট্য চর্চা এবং গঠিত হয় 'মুসলিম ড্রামাটিক ক্লাব'। প্রত্যেক শনিবার সন্ধ্যায় কখনোবা রবিবার রাতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনায় এ মঞ্চে অভিনিত হতো নাটক 'নবাব সিরাজউদ্দোলা, টিপু সুলতান, আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, ডিএল রায়ের শাহজাহান, পরপারে, চন্দ্রসেন, বঙ্গবাসী, আফগান মারাঠা, বাংলার পথে, পথের শেষে, মিশর কুমারী' ইত্যাদি।

এসব নাটকে যারা অভিনয় করতেন লক্ষ্মীপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গন তাদের পদচারণা মুখরিত হয়ে থাকতো। উকিল সুধীর বাবু ছিলেন লক্ষ্মীপুরে নাটকের শ্রষ্ঠা। তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করতেন। অন্যান্যদের মধ্যে উকিল জানকী বাবুর পুত্র সুকুমার, ভূপতি ভূষণ চক্রবর্তী, উকিল কালী কুমারের পুত্র করুণা, উকিল সুধাময় ঘোষ, উকিল মনোরঞ্জন, রমেশ চন্দ্র রায়, বুধা বাবু, দুর্গাদাস, শাঁখারীপাড়ার পরেশ চন্দ্র কর, পলান কর, গুরুনাথ রক্ষিত, বজেন্দ্র কুমার নাথ (ব্রজেন্দ্র মুহুরী), বেনু দাস, উকিল ননী গোপাল ব্যানার্জী, মুন্সেফ কোর্টের নাজির যজ্ঞেশ্বর দে, উকিল অশ্বীনী কুমার, কৌতুক অভিনেতা নরেন্দ্র ঠাকুর (নরা ঠাকুর), উকিল বাবু কুন্তল কৃষ্ণ মজুমদার ও পঞ্চাশ দশকের তিন ভ্রাতা দীপ্যেন্দু মজুমদার ভুলু, রামেন্দু মজুমদার ও রণেন মজুমদার।

ঐতিহাসিক নাটক অভিনয়ে ব্যবহার হতো জমকালো পোষাক, চকচকে তলোয়ার, কৃত্রিম মণি-মুক্তা খচিত রাজা-রাণী, সেনাপতির পোষাক, মুকুট, দালানকোঠা এবং গ্রাম্য আবহে মাঠ, নদ-নদী অঙ্কিত পর্দা এর সবই হিন্দু উকিলবাবুদের অর্থে সংগৃহিত হতো এবং বাণী রঙ্গালয়ে রক্ষিত থাকতো। হ্যাজাক লাইটের তীব্র আলোয় ঝলমলিয়ে উঠত সে মঞ্চ। কিন্তু আজ তার কোন চিহ্নই নেই সেখানে।

❦ ❦ ❦

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে নিষ্প্রাণ জেলা শহরে নাটকে প্রাণের সঞ্চার করে 'লক্ষ্মীপুর থিয়েটার' (১৯৮৫) আধুনিক প্রসেনিয়াম থিয়েটার চর্চায় তারা মঞ্চে আনে বিশিষ্ট নাট্যকাদের নাটক শা.ফরহাদ এবং প্রফেসর মাইন উদ্দিন পাঠান এর নির্দেশনায় ইবলিশ, এখনও ক্রীতদাস, চোর চোর, ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল, ফেরারী নিশাণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার মতো সব আলোচিত নাটক।

১৯৮৯ সালে দলটি বাংলাদেশ গ্রুপথিয়েটার ফেডারেশান সদস্যপদ লাভ করে। উল্লিখিত নাটক গুলো টাউন হল মঞ্চসহ জেলা শহরের বিভিন্ন মুক্তাঙ্গন, শহীদ মিনার, কলেজ মাঠে প্রদর্শীত হয়। তখনও নারীচরিত্রে অভিনয়ের জন্য কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নারীশিল্পী আনা হতো এবং স্থানীয়ভাবে প্রগতিশীল পরিবারের সন্তান ইসরাত জাহান ইয়াসমিন (বর্তমান কানাডা প্রবাসী) নারী অভিনয় শিল্পী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে সাহসী ভূমিকা পালন করে।

এসময় লক্ষ্মীপুরে প্রবীণ নাট্যজনরা তেমনভাবে এগিয়ে না আসলেও নবীন একঝাঁক তরুণ নাট্যযোদ্ধা তৈরী হয়ে উঠে এবং অধ্যাপক তপন কুমার দাস (১৯৫৪), আবুল হোসেন মাস্টার ও গোলাম মোর্শেদের (১৯৬৮) হাত ধরেই জেলায় সমৃদ্ধ নাটক রচনার সূত্রপাত ঘটে।

বর্তমানে নাটক রচনায় তেমন কোন নাট্যকারের উপস্থিতি দৃশ্যমান না হলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণকারী নাট্যজনদের উপস্থিতি আমাদেরকে গর্বিত ও অনুপ্রাণিত করে। তিনি দেশের নাট্যঙ্গনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় রামেন্দু মজুমদার, ড.বাবুল বিশ্বাস, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার, আহসান আলমগীর, নাট্যজন, নাটক গবেষক এবং নাট্যকার হিসেবে নাট্যাঙ্গনে বিশালতার স্থান করে নিয়েছেন।

রামেন্দু মজুমদার: দেশ বরেণ্য সংস্কৃতিজন, অভিনয় শিল্পী, দক্ষ সংগঠক। প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থিয়েটার নাট্যঙ্গন। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। ওঞও (ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট) এর সম্মানিক বিশ্ব সভাপতি। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি সম্মানিক ফেলোশিপ প্রাপক।
নাট্যকলা

মনোরঞ্জন আইচ

এক বিস্মৃতপ্রায় প্রকৃতির সন্তান - সংস্কৃতির পরিব্রাজক

প্রকৃতি তার আপন হাতের সংস্পর্শে যত্ন করে বিভিন্ন বিষয়ে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান তৈরী করেন তার মধ্যে মানুষ অন্যতম। আর সেই মানুষের সৃষ্টিশীলতা যখন বিশেষ মাত্রা পায় তখন আমারা তাকে ঐশ্বরিক আখ্যা দিয়ে থাকি। মনোরঞ্জন আইচ তেমন একজন ব্যতিক্রমী সৃষ্টিশীল মানুষ। তিনি একাধারে নির্দেশক, পরিচালক, অভিনেতা, গায়ক, বেহালা, তবলা, হারমোনিয়ামসহ বেশকিছু সংগীত যন্ত্রের উপর ছিল তার দখল।

আত্মনিবেদিত একজন জাতশিল্পীর সকল গুণাবলীই বিদ্যমান ছিল তাঁর মাঝে। আনুমানিক ১৯১৭-১৯২০ সালের দিকে লক্ষ্মীপুর জেলায় রায়পুর উপজেলার উত্তর কেরোয়া গ্রামের 'আইচ বাড়িতে' জন্মগ্রহণ করেন। উপজেলা শহর থেকে প্রায় ৫কি.মি. দূরে প্রকৃতির নিবিড় ভাবে হাতছানি দেয়া সুশীতল ছায়া ঘেরা একটি গ্রাম। যা শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে পুরোটাই বিছিন্ন।

পারিবারিক পরিচিতি: বাবা. প্রফুল্ল কুমার আইচ, মাতা. নির্মলা আইচ। বাবা নোয়াখালী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখকের কাজ করতেন। চারভাই তিনবোন মিলে বাবা মায়ের সাত সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

গ্রামের স্কুলেই পড়াশুনার প্রাথমিক পাঠ শেষকরে রায়পুর এল এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই মেট্রিকুলেশান পাশ করেন। একদিন সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দোয়াত থেকে কালি নিয়ে কি যেন লিখছেন বা আঁকা আঁকি করছিলেন বাবা দিলেন বকুনি সেই বকুনি থেকে রাগ করে কোলকাতা চলে গেলেন মাসীর বাড়িতে।

সেখানে গিয়ে একজন বেহালা বাদকের সান্নিধ্য লাভ করেন এই যন্ত্রটা তাঁকে কঠিনভাবে কাছে টানলেন। তিনি ওই ওস্তাদের কাছেই বেহালা বাজানো শিখতে লাগলেন। সাথে তবলা, হারমোনিয়াম এবং উচ্চাঙ্গসংগীতের উপর বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষা গুরু তখনকার সময়ের বড় বড় গাইয়ে মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়সহ তখনকার সময়ের বড় বড় শিল্পীদের সাথে সঙ্গত করতেন।

একদিন রায়পুর বাজারের জগন্নাথ মন্দিরে 'ধর্মবল' নাটকের মহড়া চলছে তিনি সেখানে মহড়া দেখতে এসে জড়িয়ে পড়লেন নাটকে; পায়জামা-পাঞ্জাবী পরা অনেকটা কৃষ্ণবর্ণ, দৈহিক মাঝারি গড়ন, কথাবার্তায় আধুনিক, লম্বা প্রকৃতির মানুষটা করলের অভিনয়, আবহসংগীত এবং গানের সুর। এরপর থেকেই শুরু হলো তাঁর জীবনের ভিন্ন অধ্যায়।

ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়লেন নাটকে। বিভিন্ন উৎসব আয়োজনে জগন্নাথ মন্দির ও মহামায়া মন্দিরে তাঁর নেতৃত্বে চলত নাটকের মহড়া। কলকাতা শহর থেকে তিনি যে শিক্ষা গ্রহন করেছেন তার ষোলআনা প্রয়োগ করে তৈরী করে নিয়েছেন তাঁর শিল্প সৃষ্টির মানুষগুলোকে শিল্পীর কাতারে দাঁড় করিছেন উমা পাল, রমা পাল, ভারতী পাল, অর্চনা পাল, ঝর্না পাল ও অর্চনা পালদের মতো জাতীয় পর্যায়ের অভিনয়শিল্পী।

তৎসময়ে এরাই ছিল জেলার অন্যতম বিখ্যাত নারীশিল্পী। নাটকে সংলাপ প্রক্ষেপণ, উচ্চারণ, সংলাপের উঠানামা কোন কিছুই তাঁর চোখ এড়াতো না। নিজে নাটকের গানগুলোর সুর করতেন, আবহসংগীত তৈরী করতেন বেহালা আর হামোনিয়ামে। তখন নাটকে গান এবংং আবহসংগীত পুরোটাই ছিলো (বাস্তবভিত্তিক) রিয়েলেষ্টিক।

উল্লেখযোগ্য সৃষ্টিকর্ম: তিনি একে একে তৈরী করেছেন 'একটি পয়সা দাও, ধর্মবল, আকালের দেশ, পণমুক্তি, শাহজাহান, পথের শেষে, বাগদত্তা, একমুঠো অন্ন চাই, নীচু তলার মানুষ, সূর্য দীঘল বাড়ী, পাথর বাড়ি, নিহত গোলাপ, বর্গি এলো দেশে, মানুষ পেলাম না, হাহাকার, সিঁদুর নিওনা মুছে, বিচারক, জয়যাত্রা, প্রায়শ্চিত্ত, অরুণশান্তি, এপৃথিবী টাকার গোলাম, অন্ধকারের নীচে সূর্য, সূর্যমহল ও কৃষ্ণলীলা'র মতো বিখ্যাত নাটক ও পালাসমূহ।

আবেগ প্রবণ মানুষ ছিলেন মনা'দা। বৈষয়িক চিন্তা তাঁকে কখনও আবেশিত করেনি। শিল্পের জগতেই আমৃত্যু বিচরণ করেছেন। স্ত্রী-সন্তানরা বাড়িতেই থাকেন তিনি ছিলেন সংসারিকভাবে উদাসীন। বাড়ি যেতেন ১৫ দিন কিংবা ১মাস পর কিংবা তারও অধিকসময় পরে বাবা-মা তখনও বেঁচে আছেন।

অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপনে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন কলকাতায় নিয়ে অপারেশনসহ বিভিন্ন ভাবে চিকিৎসা করানো হয় কিন্তু তাঁর বাবা মায়ের জীবদ্বশায় কাঁধে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তাঁদের কোলে স্ত্রী, চারপুত্র উত্তম, দিলীপ, অশোক ও কিশোর এবং তিনকন্যা শিখা, সীতা ও মিতা'কে রেখে ছোট কন্যা মিতা আইচ'র জন্মের ২১ দিনের মাথায় ২০ জানুয়ারি ১৯৮২ খ্রি. তারিখ ৬৩-৬৫ বছর বয়সে শিল্পের কারিগর তাঁর বিশাল ভূবন থেকে বিদায় নিয়ে অনন্তলোকে পাড়িজমান।

সমাহিত হয়ে আছেন নিজ বাড়ীর প্রবেশদ্বারে প্রকৃতির সুশীতল ছায়াতলে বিশ্রামরত আজীবনের।
তাঁর কর্মময় জীবনের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নাট্যকলা

ব্রজেন্দ্র কুমার নাথ

জেলার যাত্রা আর নাট্যশিল্পের এক বরেণ্য অভিনেতা

পৈত্রিক নিবাস রামগঞ্জ উপজেলায় মাছিমপুর কামার হাঁট সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মজুমদার বাড়ি হলেও বাবা স্বর্গীয় যশোদা কুমার নাথ লক্ষ্মীপুর মুন্সেফ আদালতের মুহুরী (আইনজীবি সহকারী) হওয়ায় ১৯০৯খ্রি. লক্ষ্মীপুরের হাসপাতাল রোডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এ শহরেই ১৯২০খ্রি. ব্রজেন্দ্র কুমার নাথ জন্মগ্রহন করেন। মাতা স্বর্গীয়. মনমোহিনী দেবী। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

বাবা স্বর্গীয়. যশোদা কুমার নাথ ভালো বেহালা বাজাতে পারতেন। কীর্তনের আসরে বেহালা বাজিয়ে তিনি শ্রোতাদের বিমোহিত করে রাখতেন। সেভাবে পারিবারিক সাংস্কৃতিক বলয়ে বেড়ে উঠেছেন ব্রজেন্দ্র কুমার নাথ। পড়াশুনা করেছেন লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুলে। স্কুলে থাকা কালীন সময় থেকেই তিনি বাবার পেশার সাথে যুক্ত হয়ে যান।

১৮-২০ বছর বয়সে ভালোলাগা থেকে নিজ পেশার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন যাত্রাভিনয়ে। মডেল হাইস্কুল মিলনায়তনের মঞ্চে সহপাঠিদের সাথে অভিনয় করেন। এছাড়া লক্ষ্মীপুরে মুন্সেফী আদালত প্রতিষ্ঠা হবার পর শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উকিল মোক্তার মিলে শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাণীরঙ্গালয় সেখানে তিনি অভিনয়ে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অভিনয় করে সুনাম আর্জন করেন।

শিক্ষা ও পেশা: পেশাগত জীবনে তিনি জেলা শহরে একজন দক্ষ আইনজীবি সহকারী হিসেবে অনেক অভিজ্ঞ আইনজীবিদের সাথে কাজ করেছেন তার মধ্যে এ্যাডভোকেট কুন্তল কৃষ্ণ মজুমদার, এ্যাডভোকেট রমনী গুপ্ত, এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান, এ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, এ্যাডভোকেট মহসীন কবির, এ্যাডভোকেট তোফায়েল চৌধুরী, এ্যাডভোকেট শৈবাল কান্তি সাহা, এ্যাডভোকেট মাখন লাল ভৌমিক অন্যতম।

তৎকালীন লক্ষ্মীপুর যাত্রাশিল্প এবং নাট্যাঙ্গনের দিকপাল স্বর্গীয় মনোরঞ্জন আইচ এর পরিচালনায় একমুঠো অন্ন চাই, রূপবানের সংসার,গরীবের মেয়ে, ফেরীওয়ালা,সিঁদুর নিওনা মুছে,আপন দুলাল,একটি পয়সা দাও, গরীব কেন মরে, নীচু তলার মানুষ, হাহাকার, সূর্যমহল, বর্গী এলো দেশে, গলি থেকে রাজপথ, আঁধারে মুসাফির, সাগরভাসা সহ অসংখ্য যাত্রাপালায় অভিনয় করেন।

এসবের বেশির ভাগ নাটকই ভৈরব নাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা। উঁচা-লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী এ শিল্পীর অভিনয় দক্ষতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া পেশাদারীত্ব নিয়ে যে পরিচালক স্বর্গীয় মনোরঞ্জন আইচ কাজ করতেন তখনকার সময়ে তাঁকে নাট্যদিকপাল গিরিশ চন্দ্র ঘোষ এর সাথে তুলনা করলেও অতুক্তি হবে বলে মনে হয় না।

বাবু ব্রজেন্দ্র কুমার নাথ পেশাগত ভাবে বিশ্বনাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এর বাবা এ্যাডভোকেট কুন্তল কৃষ্ণ মজুমদারের মুহুরী হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হলে বিশ্বনাট্যজন রামেন্দু মজুমদারের নির্দেশনায় 'সুবচন নির্বাসনে, কুয়াশাকান্না, পথের শেষে' সহ বিভিন্ন নাটকে অভিনয় করেন।

১৯৪৬খ্রি. তিনি আবির নগর দুলাল বাবুর বাড়িতে স্বর্গীয় ননী বালা দেবী'র সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। আশির দশকে এসে জেলা শহরে দেখাদেয় সাংস্কৃতিক মন্দা তখন থেকেই আর অভিনয়ে দেখা যায়নি এ গুণী শিল্পীকে। ১৯৯৭খ্রি. লক্ষ্মীপুর থিয়েটার তার যুগপূর্তি ও নাট্যোৎসবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

২০০৪খ্রি. ২০ এপ্রিল চুরাশী বছর বয়সের বর্নাঢ্য জীবন শেষ করে পরপারে পাড়িজমান এ শিল্পী।
মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র, চার কন্যা সহ নাতি-নাতনী ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
এ গুণী শিল্পীর বর্নাঢ্য জীবনের প্রতি অতল শ্রদ্ধা।

নাট্যকলা

অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার পাল (রবি)

লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের নাট্য শিল্পের প্রাণপুরুষ

জেলা সদরে রবি'দা নামেই যাঁর ব্যাপক পরিচিতি আর প্রিয়ভাজন মুখ। আত্মপ্রচার আর আত্মকথনে বরাবর বিমুখ, অথচ পরপোকারে সব সময় অগ্রগণ্য। ১৯৪৩খ্রি. ২৫ জানুয়ারি সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর শহরে সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। বাবা স্বর্গীয় শশী কুমার পাল মা স্বর্গীয় বিজন রাণী পালের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় প্রদীপ কুমার পাল।

চৌমুহনী এস.এ কলেজ থেকে বি.এ ডিগ্রি অর্জন করেন স্বাধীনতার যুদ্ধের পরপর। তারপর কুমিল্লা ল' কলেজ থেকে এল.এল.বি। ১৯৮১খ্রি. আইন পেশা শুরুর পূর্বে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ৮ বৎসর কর্মকাল কাটিয়েছেন। সেখান থেকে এসে স্থায়ীভাবে আইন পেশায় মনযোগীহন এবং শেষ পর্যন্ত একজন আইনজীবি হিসেবে লক্ষ্মীপুর জজকোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত থেকেছেন সুনামের সাথে।

বিশেষত্ব: ওকালতি পেশার সুবাধে মুসাবিদায় যিনি সিদ্ধহস্ত। যিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দারুন পারদর্শিতায় হৃদয়গ্রাহী স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। নিজের কর্ম প্রকাশে কয়েকটা লাইন লিখতে তাঁর দারুন অনীহা।

লক্ষীপুরের খেলাধুলা আর সাংস্কৃতিক অগ্রগতির সাথে যাঁর জীবন নিবীড় ভাবে জড়িত, তাঁর নিজ জীবনি শুধু এক পৃষ্ঠা কাগজে বন্দি করা যায়না। তবুও তিনি নিজেকে সব সময় সাদা-মাঠা ভাবেই উপস্থাপন করেছেন। স্কুল জীবনেই লেখাপড়া খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কর্মে অনুরাগ তৈরী হয়। আবৃতি আর নাট্যকলায় পারদর্শিতা ছিল অনবদ্য।

জীবনের এক বিরাট অংশ জুড়ে ছিল মঞ্চনাটক আর অভিনয়। নাটক পরিচালনা করে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা, থানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচুর দর্শক প্রিয়তা আর অভিনন্দন পেয়েছেন। পুরস্কার প্রাপ্তিও ছিল অগুনতি। বিশিষ্ট নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার এর সহিত ছোট বেলা থেকে প্রাপ্ত বয়স পর্যন্ত বহু নাটকে কৃতিত্বের সহিত অভিনয় করে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মকালীন সময়ে অধিদপ্তরের সামাজিক উন্নয়ন মূলক শর্ট ফিল্ম সোনাই তে কাজ করে প্রসংশিত হয়েছেন। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ত্রিধারা শিশু নিকেতন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের একজন উদ্যোগী সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ বিশ বছর। লক্ষীপুরের আওয়ামী আইনজীবি সমিতির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন চিরবিদায়ের কাল অবধি।

সাংস্কৃতিক অঙ্গঁনের পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ছিল সিদ্ধহস্ত। ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও ক্যারাম খেলায় ছিল প্রতিথযশা। এক্ষেত্রে পুরস্কার প্রাপ্তিও ছিল অসংখ্য।

নাট্যকলা

বিশ্বনাথ সাহা

জেলার নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

সুভাষ চন্দ্র চৌধুরী

নাট্যচর্চার এক নিবেদিতপ্রাণ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

অধ্যাপক তপন কুমার দাস

নাট্যকার, শিক্ষক ও সংস্কৃতিসেবী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

শহিদ উল্যা খন্দকার

নাট্যজগতের এক অকুতোভয় যোদ্ধা

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

আবুল হাসেম

নাট্যচর্চার এক অবিচল পথিক

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

প্রফেসর মো. মাইন উদ্দিন পাঠান

শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, কবি, নাট্যনির্দেশক

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

গোলাম মোরশেদ

নাট্যচর্চার এক অগ্রদূত

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

বেলায়েত হোসেন রিপন

নাট্যজগতের এক সমৃদ্ধ সত্তা

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

মুহা. মাহতাব উদ্দিন আরজু

নাট্যকার ও নির্দেশক

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নাট্যকলা

ডালিম কুমার দাস টিটু

নাট্যাঙ্গনের এক নিবেদিতপ্রাণ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

রাধেশ্যাম পাটওয়ারী

সুরের জগতের এক অনন্য স্রষ্টা

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

যদু গোপাল দাস

সংগীত শিক্ষার পথিকৃৎ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

সুদেব চন্দ্র দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

মুকুল দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

স্বপন কুমার নন্দী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

মাহবুবুল বাসার

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

অলোক কুমার কর

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

লিপিকা সিংহ রায়

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

সংগ্রাম মজুমদার

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

শিল্পী রানী চক্রবর্তী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

সুনন্দা কর

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

ফরিদা ইয়াসমিন লিকা

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

মনিকা চক্রবর্তী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

সুপ্তি রানী ভৌমিক

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

কন্ঠসংগীত

সুমা ভৌমিক

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লোক সংস্কৃতি

কবিয়াল হায়দার আলী বয়াতী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লোক সংস্কৃতি

কৃষ্ণ গোপাল দাস বাউল

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লোক সংস্কৃতি

মো. মোস্তফা মাতাব্বর

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লোক সংস্কৃতি

অহিদ উদ্দিন রতন

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লোক সংস্কৃতি

মো. হোসেন বয়াতি

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লোক সংস্কৃতি

প্রাণ গোবিন্দ দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নৃত্যকলা

বনশ্রী পাল

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নৃত্যকলা

মো. আবদুল লতিফ শাকিল

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নৃত্যকলা

আবদুর রহিম অপূর্ব

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

নৃত্যকলা

শুভ দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

চারুকলা

এস এম জাহাঙ্গীর

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

চারুকলা

নিজামুল ইসলাম

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

চারুকলা

আবুল কাশেম খোকা

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

চারুকলা

দীপন কুমার দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

চারুকলা

তাপস কুমার শর্মা

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

তবলা

সুবল নাথ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

তবলা

বেণী মাধব মজুমদার

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

তবলা

অলক কুমার চক্রবর্তী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

তবলা

অঞ্জন দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

তবলা

মো. ওমর ফারুক মুরাদ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

আবৃত্তি

হেলাল উদ্দিন মাহমুদ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

আবৃত্তি

রাফিয়া আক্তার

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

আবৃত্তি

মু. রাফি নাহিদ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

যাত্রাশিল্পী

স্বপন চক্রবর্তী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

যাত্রাশিল্পী

চামেলী পাল

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

যাত্রাশিল্পী

বেলায়েত হোসেন

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

অন্যান্য

অমৃত লাল নাথ

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

অন্যান্য

হিমাদ্রি শেখর মুখার্জী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

অন্যান্য

দীলিপ চৌধুরী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

অন্যান্য

শংকর মজুমদার

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

অন্যান্য

বিধু ভুষণ দাস

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

লেখক

টিংকু রঞ্জন মল্লিক

গবেষক, শিক্ষক, সংস্কৃতিসেবী

[এই অধ্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে...]

❦ ❦ ❦

লক্ষ্মীপুর'র সংস্কৃতিজন কথা
গবেষণা, তথ্যসংগ্রহ, রচনা ও সম্পাদনা: টিংকু রঞ্জন মল্লিক
প্রথম প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৫

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত